॥ বাংলা গীতা ॥

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা — ১৮ অধ্যায় | শ্লোক • বাংলা অর্থ • সহজ ব্যাখ্যা • ভিডিও

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ১৮ অধ্যায়

অধ্যায় পড়ুন অথবা ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 1

অর্জুন বিষাদযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 2

সাংখ্যযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 4

জ্ঞানযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 5

কর্মসন্ন্যাসযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 6

ধ্যানযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 7

জ্ঞানবিজ্ঞানযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 8

অক্ষরব্রহ্মযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 9

রাজগুহ্যযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 10

বিভূতিযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 11

বিশ্বরূপ দর্শনযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 12

ভক্তিযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 13

ক্ষেত্র-ক্ষেত্রজ্ঞ বিভাগযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 14

গুণত্রয় বিভাগযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 15

পুরুষোত্তমযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 16

দৈবাসুর সম্পদ বিভাগযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 17

শ্রদ্ধাত্রয় বিভাগযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 18

মোক্ষসন্ন্যাসযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন
Showing posts with label Chapter-2. Show all posts
Showing posts with label Chapter-2. Show all posts

Monday, 6 July 2026

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা যথাযথ | নবম অধ্যায় – রাজগুহ্যযোগ | Rajguhya Yoga Chapter 9 | Bhagavad Gita Bengali

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা দ্বিতীয় অধ্যায়

সাংখ্যযোগ

॥ ওঁ শ্রীপরমাত্মনে নমঃ ॥


অধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত পরিচয়

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার দ্বিতীয় অধ্যায়ের নাম “সাংখ্যযোগ”। এই অধ্যায়ে মোট ৭২টি শ্লোক রয়েছে। গীতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এটি। প্রথম অধ্যায়ে অর্জুন যুদ্ধক্ষেত্রে শোক, মোহ ও কর্তব্য সম্পর্কে সংশয়ে পতিত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় অধ্যায়ে তিনি শ্রীকৃষ্ণের শরণ গ্রহণ করেন এবং সঠিক পথনির্দেশ প্রার্থনা করেন।

এই অধ্যায় থেকেই শ্রীকৃষ্ণের মূল উপদেশ শুরু হয়। আত্মার অমরত্ব, দেহের নশ্বরতা, স্বধর্ম, নিষ্কাম কর্ম, সমত্ববুদ্ধি এবং স্থিতপ্রজ্ঞ ব্যক্তির লক্ষণ সম্পর্কে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে শিক্ষা দেন।

অর্জুনের শরণাগতি

অর্জুন গভীর মানসিক দ্বন্দ্বে বুঝতে পারেন যে নিজের বুদ্ধি দিয়ে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তাই তিনি শ্রীকৃষ্ণের কাছে নিজেকে শিষ্যরূপে সমর্পণ করেন এবং তাঁর কাছে প্রকৃত কল্যাণের পথ জানতে চান।

অর্জুনের এই শরণাগতির পরেই শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে আধ্যাত্মিক জ্ঞান প্রদান করতে শুরু করেন।

আত্মা অমর ও অবিনশ্বর

শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে শিক্ষা দেন যে মানুষের দেহ নশ্বর হলেও আত্মা চিরন্তন, অজর ও অমর। আত্মার কখনও জন্ম হয় না এবং কখনও মৃত্যু হয় না।

মানুষ যেমন পুরোনো বস্ত্র ত্যাগ করে নতুন বস্ত্র গ্রহণ করে, তেমনি আত্মা পুরোনো দেহ ত্যাগ করে নতুন দেহ গ্রহণ করে।

অতএব দেহের পরিবর্তন ও মৃত্যুর জন্য অতিরিক্ত শোক করা জ্ঞানীর লক্ষণ নয়।

সুখ ও দুঃখ ক্ষণস্থায়ী

শ্রীকৃষ্ণ বলেন, মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখ, শীত-উষ্ণ এবং লাভ-ক্ষতি আসে ও চলে যায়। এগুলি স্থায়ী নয়।

যিনি ধৈর্যসহকারে জীবনের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি সহ্য করতে পারেন এবং সুখ-দুঃখে সমভাব বজায় রাখেন, তিনিই আধ্যাত্মিক উন্নতির যোগ্য হন।

স্বধর্ম ও কর্তব্য পালন

শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে তাঁর কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। একজন ক্ষত্রিয় হিসেবে ধর্মযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা অর্জুনের কর্তব্য।

কর্তব্য থেকে পিছিয়ে গেলে মানুষ নিজের সম্মান ও ধর্ম উভয়ই হারাতে পারে। তাই ফলের ভয় বা ব্যক্তিগত আসক্তির কারণে নিজের ন্যায়সঙ্গত কর্তব্য ত্যাগ করা উচিত নয়।

কর্মযোগের মহান শিক্ষা

“কর্মে তোমার অধিকার আছে, কিন্তু কর্মফলে কখনও তোমার অধিকার নেই।”

শ্রীকৃষ্ণ শিক্ষা দেন যে মানুষের উচিত নিজের কর্তব্য পালন করা, কিন্তু কর্মের ফলের প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত না হওয়া।

সাফল্য বা ব্যর্থতার চিন্তা না করে নিষ্ঠার সঙ্গে কর্তব্য পালন করাই নিষ্কাম কর্মের মূল শিক্ষা।

সমত্বই যোগ

সাফল্য ও ব্যর্থতা, লাভ ও ক্ষতি এবং জয় ও পরাজয়ের মধ্যে সমভাব বজায় রেখে কর্ম করার শিক্ষা দিয়েছেন শ্রীকৃষ্ণ।

এই সমত্ববুদ্ধিই যোগের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ফলের আসক্তি ত্যাগ করে কর্তব্য পালন করলে মানুষ মানসিক শান্তি লাভ করতে পারে।

স্থিতপ্রজ্ঞ ব্যক্তি কে?

অধ্যায়ের শেষ অংশে অর্জুন জানতে চান—স্থিতপ্রজ্ঞ ব্যক্তির লক্ষণ কী?

শ্রীকৃষ্ণ বলেন, যিনি মনের সমস্ত কামনা ত্যাগ করে আত্মাতেই সন্তুষ্ট থাকেন, সুখে অতিরিক্ত আনন্দিত হন না, দুঃখে বিচলিত হন না এবং রাগ, ভয় ও আসক্তি থেকে মুক্ত থাকেন—তিনিই স্থিতপ্রজ্ঞ।

স্থিতপ্রজ্ঞ ব্যক্তি কচ্ছপের মতো প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের ইন্দ্রিয়গুলিকে বিষয় থেকে সংযত করতে পারেন।

ইন্দ্রিয় আসক্তির পরিণতি

শ্রীকৃষ্ণ মানুষের পতনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারাবাহিকতা ব্যাখ্যা করেছেন। বিষয় চিন্তা থেকে আসক্তি জন্মায়, আসক্তি থেকে কামনা, কামনা থেকে ক্রোধ, ক্রোধ থেকে মোহ, মোহ থেকে স্মৃতিভ্রংশ এবং স্মৃতিভ্রংশ থেকে বুদ্ধিনাশ ঘটে।

বুদ্ধিনাশ হলে মানুষের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক পতন ঘটে। তাই মন ও ইন্দ্রিয় সংযম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

দ্বিতীয় অধ্যায়ের মূল শিক্ষা

১. আত্মা অমর ও অবিনশ্বর।

২. দেহ নশ্বর ও পরিবর্তনশীল।

৩. সুখ ও দুঃখ স্থায়ী নয়।

৪. নিজের ন্যায়সঙ্গত কর্তব্য পালন করা উচিত।

৫. কর্ম করতে হবে, কিন্তু কর্মফলের প্রতি আসক্ত হওয়া উচিত নয়।

৬. সাফল্য ও ব্যর্থতায় সমভাব বজায় রাখাই যোগ।

৭. মন ও ইন্দ্রিয় সংযম আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য অপরিহার্য।

৮. স্থিতপ্রজ্ঞ ব্যক্তি সুখ-দুঃখ, লাভ-ক্ষতি ও জয়-পরাজয়ে অবিচল থাকেন।

সংক্ষেপে দ্বিতীয় অধ্যায়

অধ্যায়ের নাম: সাংখ্যযোগ

অধ্যায় সংখ্যা: দ্বিতীয় অধ্যায়

মোট শ্লোক: ৭২টি

প্রধান বিষয়: আত্মার অমরত্ব, দেহের নশ্বরতা, স্বধর্ম, নিষ্কাম কর্ম, সমত্ববুদ্ধি, ইন্দ্রিয় সংযম এবং স্থিতপ্রজ্ঞ ব্যক্তির লক্ষণ।


॥ হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে ॥

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার জ্ঞান আমাদের নিষ্কাম কর্ম, আত্মজ্ঞান ও শান্তির পথে পরিচালিত করুক।

``` Blogger-এ **New Post → HTML View**-এ code paste করুন এবং অবশ্যই Label দিন **`Chapter-2`**। তাহলে আপনার Theme-এর **“অধ্যায় পড়ুন”** button থেকে এই লেখা খোলা যাবে।

Search This Blog

Powered by Blogger.

Blog Archive