বিভূতিযোগ (শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – দশম অধ্যায়)
বিভূতিযোগ হলো শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার দশম অধ্যায়। এই অধ্যায়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে তাঁর ঐশ্বর্য, মহিমা ও সর্বব্যাপী প্রকাশ (বিভূতি) সম্পর্কে বর্ণনা করেন। "বিভূতি" শব্দের অর্থ হলো দিব্য মহিমা, অসাধারণ শক্তি বা ঈশ্বরীয় প্রকাশ।
অধ্যায়ের মূল বিষয়
- ভগবান শ্রীকৃষ্ণই সমস্ত সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়ের কারণ।
- জগতের সমস্ত শ্রেষ্ঠ, মহৎ, সুন্দর, শক্তিশালী ও পবিত্র বিষয় তাঁরই প্রকাশ।
- ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজমান, তবে কিছু বিশেষ রূপে তাঁর মহিমা অধিক স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়।
- ভক্তি, জ্ঞান ও ঈশ্বরচিন্তার মাধ্যমে মানুষ তাঁকে উপলব্ধি করতে পারে।
কয়েকটি প্রসিদ্ধ বিভূতি
- আদিত্যদের মধ্যে আমি বিষ্ণু।
- জ্যোতিষ্কদের মধ্যে আমি সূর্য।
- নক্ষত্রদের মধ্যে আমি চন্দ্র।
- বেদের মধ্যে আমি সামবেদ।
- দেবতাদের মধ্যে আমি ইন্দ্র।
- পর্বতদের মধ্যে আমি হিমালয়।
- নদীদের মধ্যে আমি গঙ্গা।
- বৃক্ষদের মধ্যে আমি অশ্বত্থ।
- যোদ্ধাদের মধ্যে আমি রাম।
- ঋষিদের মধ্যে আমি ভৃগু।
- অক্ষরগুলোর মধ্যে আমি অকার (অ)।
মূল শিক্ষা
১. ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজমান।
২. জগতের প্রতিটি মহৎ গুণ ঈশ্বরেরই প্রকাশ।
৩. অহংকার ত্যাগ করে ঈশ্বরের মহিমা উপলব্ধি করা উচিত।
৪. ভক্তি ও জ্ঞান মানুষকে ঈশ্বরের নিকট পৌঁছে দেয়।
৫. সৃষ্টির সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠত্ব দেখে ঈশ্বরকে স্মরণ করা আধ্যাত্মিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন।
বিখ্যাত শ্লোক (১০.৪১)
যদ্ যদ্ বিভূতিমৎ সত্ত্বং শ্রীমদূর্জিতমেব বা।
তত্তদেবাবগচ্ছ ত্বং মম তেজোঽংশসম্ভবম্॥
বাংলা অর্থ:
জগতে যে কোনো সত্তা বিশেষ ঐশ্বর্য, সৌন্দর্য, শক্তি বা মহিমায় সমৃদ্ধ, জেনে রেখো—তা আমারই তেজের একটি ক্ষুদ্র অংশের প্রকাশ।
সারসংক্ষেপ
বিভূতিযোগ আমাদের শেখায় যে, সমস্ত জগতই ভগবানের ঐশ্বর্যময় প্রকাশ। প্রকৃতির প্রতিটি শ্রেষ্ঠত্ব, জ্ঞান, শক্তি, সৌন্দর্য ও কল্যাণে তাঁর উপস্থিতি অনুভব করলে মানুষের হৃদয়ে ভক্তি, বিনয় ও ঈশ্বরপ্রেম জাগ্রত হয়। এই অধ্যায় ভক্তকে বিশ্বজগতের সর্বত্র ভগবানের দর্শন করতে এবং তাঁর প্রতি অটল বিশ্বাস স্থাপন করতে উদ্বুদ্ধ করে।
.jpg)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন