॥ বাংলা গীতা ॥

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা — ১৮ অধ্যায় | শ্লোক • বাংলা অর্থ • সহজ ব্যাখ্যা • ভিডিও

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ১৮ অধ্যায়

অধ্যায় পড়ুন অথবা ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 1

অর্জুন বিষাদযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 2

সাংখ্যযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 4

জ্ঞানযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 5

কর্মসন্ন্যাসযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 6

ধ্যানযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 7

জ্ঞানবিজ্ঞানযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 8

অক্ষরব্রহ্মযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 9

রাজগুহ্যযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 10

বিভূতিযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 11

বিশ্বরূপ দর্শনযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 12

ভক্তিযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 13

ক্ষেত্র-ক্ষেত্রজ্ঞ বিভাগযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 14

গুণত্রয় বিভাগযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 15

পুরুষোত্তমযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 16

দৈবাসুর সম্পদ বিভাগযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 17

শ্রদ্ধাত্রয় বিভাগযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

অধ্যায় 18

মোক্ষসন্ন্যাসযোগ

অধ্যায় পড়ুন▶ ভিডিও দেখুন

গুরু বন্দনা,জয় গুরু জয় গুরু জয় গুরু জয়..শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর (Ramthakuer Song)এর একটি ভক্তি মূলক গান ।

বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

মোক্ষসন্ন্যাসযোগ (শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – অষ্টাদশ অধ্যায়)

 

মোক্ষসন্ন্যাসযোগ (শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – অষ্টাদশ অধ্যায়)

মোক্ষসন্ন্যাসযোগ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার অষ্টাদশ তথা শেষ অধ্যায়। এটি সমগ্র গীতার সারসংক্ষেপ। এখানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সন্ন্যাস, ত্যাগ, কর্ম, জ্ঞান, ভক্তি, স্বধর্ম, এবং মোক্ষ সম্পর্কে চূড়ান্ত উপদেশ প্রদান করেন। এই অধ্যায়ে পূর্ববর্তী ১৭টি অধ্যায়ের মূল তত্ত্ব একত্রিত হয়েছে।


অধ্যায়ের মূল বিষয়

১. সন্ন্যাস ও ত্যাগ

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন—

  • সন্ন্যাস হলো কাম্যকর্ম (ফললাভের উদ্দেশ্যে করা কর্ম) ত্যাগ করা।

  • ত্যাগ হলো কর্মফলের প্রতি আসক্তি ত্যাগ করা।

তিনি শিক্ষা দেন যে কর্তব্যকর্ম কখনও ত্যাগ করা উচিত নয়, বরং ফলের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে নিষ্কামভাবে কর্ম করতে হবে।


২. কর্মের পাঁচটি কারণ

প্রত্যেক কর্ম সম্পন্ন হওয়ার পেছনে পাঁচটি কারণ রয়েছে—

  1. শরীর (অধিষ্ঠান)

  2. কর্তা

  3. বিভিন্ন ইন্দ্রিয় ও উপকরণ

  4. বিভিন্ন প্রচেষ্টা

  5. ঈশ্বর বা দৈবশক্তি

এই পাঁচটি কারণ না জেনে শুধু নিজেকে কর্তা মনে করা অজ্ঞতার লক্ষণ।


৩. জ্ঞান, কর্ম ও কর্তার তিন বিভাগ

সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ অনুসারে—

  • জ্ঞান তিন প্রকার।

  • কর্ম তিন প্রকার।

  • কর্তা তিন প্রকার।

সাত্ত্বিক জ্ঞান মানুষকে ঐক্য ও সত্য উপলব্ধি করায়, রাজসিক জ্ঞান বিভেদ সৃষ্টি করে, আর তামসিক জ্ঞান অজ্ঞানতায় আবদ্ধ রাখে।


৪. বুদ্ধি, ধৃতি ও সুখ

এই তিনটিও সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ অনুযায়ী বিভক্ত।

  • সাত্ত্বিক সুখ প্রথমে কঠিন মনে হলেও শেষে অমৃতের মতো কল্যাণকর।

  • রাজসিক সুখ প্রথমে আনন্দদায়ক হলেও শেষে দুঃখের কারণ হয়।

  • তামসিক সুখ অলসতা, নিদ্রা ও মোহ বৃদ্ধি করে।


৫. স্বধর্ম

ভগবান বলেন—

নিজের কর্তব্য পালন করা, তা ত্রুটিপূর্ণ হলেও, অন্যের কর্তব্য নিখুঁতভাবে পালন করার চেয়ে শ্রেয়।

প্রত্যেক মানুষের উচিত নিজের স্বভাব ও যোগ্যতা অনুযায়ী কর্তব্য পালন করা।


৬. সর্বোচ্চ উপদেশ (চরম শ্লোক)

গীতার সর্বাধিক প্রসিদ্ধ শ্লোকগুলির একটি—

সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ।
অহং ত্বা সর্বপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ॥

(১৮.৬৬)

বাংলা অর্থ:
সমস্ত ধর্মাচরণের বাহ্যিক ভেদাভেদ ত্যাগ করে একমাত্র আমার শরণ গ্রহণ করো। আমি তোমাকে সকল পাপ থেকে মুক্ত করব; কোনো শোক করো না।


অর্জুনের উপলব্ধি

ভগবানের উপদেশ শোনার পর অর্জুন বলেন—

নষ্টো মোহঃ স্মৃতির্লব্ধা ত্বত্প্রসাদান্ময়াচ্যুত।
স্থিতোऽস্মি গতসন্দেহঃ করিষ্যে বচনং তব॥

(১৮.৭৩)

বাংলা অর্থ:
হে অচ্যুত! আপনার কৃপায় আমার মোহ দূর হয়েছে, স্মৃতি ফিরে এসেছে। আমি এখন সন্দেহমুক্ত ও স্থিরচিত্ত। আমি আপনার আদেশ পালন করব।


অধ্যায়ের মূল শিক্ষা

১. কর্তব্যকর্ম ত্যাগ নয়, কর্মফলের আসক্তি ত্যাগই প্রকৃত ত্যাগ।
২. নিষ্কাম কর্ম, আত্মজ্ঞান ও ভক্তি—এই তিনের সমন্বয়েই মোক্ষ লাভ সম্ভব।
৩. নিজের স্বধর্ম পালনই শ্রেষ্ঠ পথ।
৪. ঈশ্বরের প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ মানুষকে সকল ভয়, পাপ ও বন্ধন থেকে মুক্ত করে।
৫. গীতার চূড়ান্ত বার্তা হলো—ভক্তি, আত্মসমর্পণ এবং নিষ্কাম কর্মের মাধ্যমে পরম শান্তি ও মোক্ষ লাভ।


সারসংক্ষেপ

মোক্ষসন্ন্যাসযোগ সমগ্র শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার উপসংহার। এই অধ্যায়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শিক্ষা দেন যে, মানুষ যেন ফলের আসক্তি ত্যাগ করে নিজের কর্তব্য নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে, আত্মজ্ঞান অর্জন করে এবং পরমেশ্বরের প্রতি একান্ত ভক্তি ও আত্মসমর্পণের মাধ্যমে জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য—মোক্ষ—লাভ করে। এই অধ্যায় গীতার সমস্ত শিক্ষাকে একসূত্রে গেঁথে মানবজীবনের পূর্ণাঙ্গ আধ্যাত্মিক পথনির্দেশ প্রদান করে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.

ব্লগ সংরক্ষাণাগার